গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এই ব্যাপারে আমাদের সকলের একটি সঠিক ধারণা থাকা দরকার। কোন জিনিস যদি আমরা যেনে বুঝে খায় তাহলে এর গুণাগুণ টা বেশি মনে হবে মনথেকে।গাজরে থাকে ধরণের বিটা- ক্যারোটিনের উৎস যা আমাদের শরিরের ভিটামিন এ পূরণ করে।
গাজর খেলে আমাদের শরির যেমন ভালো হবে তেমনি এর কিছু অপকারিতা আছে সে সকল বিষয় ব্যাপারে আজ আমরা জানবো। গাজর সারা বছর কম বেশি পাওয়া যায়। গাজরে চিনির পরিমাণ একটু বেশি থাকে যা অনেকের ক্ষতি করে থাকে। নিম্নে আমরা গাজর সর্ম্পকে জানবো।
সূচিপত্রঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে
- হজম শক্তি বাড়ায়
- যৌন শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে
- ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায় ও দাগ দূর করে
- দাঁত রক্ষা করতে গাজর ব্যবহার
- চুলের যত্নে গাজর ব্যবহার
- রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়
- রক্তস্বল্পতা দূর করতে গাজরের ব্যবহার
- বিভিন্ন খাবারে গাজরের ব্যবহার
- গাজরের অপকারিতা কি?
- শেষকথাঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কম বেশি আমরা অনেকেই জানি। গাজর খেলে আমাদের
শরিরের কি কি উপকার হয় কি কি ক্ষতি হয়। আমাদের দেশের বা বিশ্বের সব দেশেই কম বেশি
গাজর পাওয়া যায়। গাজরের তেমন একটা দাম ও থাকে না তাই সবাই খেতে পারে। আমাদের
শরিরের অনেক রকম পুষ্টির অভাব থাকে।
যা আমরা বুঝতে পারি না যার ফলে শরিরে অনেক রকম রোগের বাসা বাধে এ থেকে বাচতে
আমাদের নিয়মিত গাজর খেতে হবে।গাজর আমাদের নিয়মিত রুটিন করে খেতে হবে ছোট বড়
সকলকেই গাজর খেতে হবে। গাজরে অনেক রকম ভিটামিন থাকায় একে সুপার ফুট হিসাবে ধরা
হয়। এবং গাজর বিভিন্ন খাবারে দেওয়া হয়ে থাকে।
হাঁড় মজবুত করতে সহায়তা করে
আমাদের শরিরের হাঁড় কারো একবারে মজবুত হয় আবার অনেকের কম থাকে। গাজরে
ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় অতি সহজে আমাদের শরিরের হাঁড় শক্ত হয়। শুধু
ক্যালসিয়াম না গাজরে অধিক পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে হাঁড় শক্ত বা মজবুত রাখতে এ
দুইটার প্রয়োজন অনেক। তাই আমরা যদি নিয়ম করে গাজর খেতে পারি তাহলে সর্ব রকম উপকার
পেতে পারি।
গাজরের ক্যালসিয়ামের দ্বারা হাঁড়ের ব্যাথা, হাঁড় জোড়া বা বিভিন্ন ব্যাথা ভালো হয়ে
থাকে। সবাই যদি জানতো গাজরের উপকারিতা ব্যাপারে তাহলে প্রতিটি পরিবারে অসুখ
কম হতো। গাজর চিবিয়ে খেলে শরিরের অনেক কোষ সতেজ থাকে। তাই গাজর আমাদের খাবারের
রুটিনের সাথে রাখতে হবে তাহলে হাঁড় মজবুত হবে।
হজম শক্তি বাড়ায়
আমরা অনেক সময় বিভিন্ন রকম খাবার খেয়ে থাকি আর সব রকম খাবার আমাদের পেটে সরয্য হয়
না। কাচা গাজর দিনে দুই থেকে তিনটি খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। কোষ্ঠকাটিন্য দূর
হবে পেট ভালো থাকবে। তাই আমরা সবাই প্রতিদিন খাবারের সাথে কাচা গাজর চিবিয়ে
খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে তাহলে হজম শক্তি বৃদ্ধি হবে।
যৌন শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে
গাজর আত্যান্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। গাজর যেমন চিবিয়ে খাওয়া যায় তেমনি গাজরের জুস
করে খাওয়া যায়। গাজরের জুস খেলে যৌন শক্তি বেড়ে যায়। দিনে যদি কেউ গড় ২০০ থেকে
২৫০ গ্রাম গাজরের জুস খায় তাহলে তার যৌন শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আবার যদি কেউ গড় ৩
গ্লাস করে গাজরের জুস পান করে তাহলে শুক্রাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই আমাদের
প্রতিদিন গাজর খাওয়া দরকার গাজরের গুরুত্ব অপরিসীম।
ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায় ও দাগ দূর করে
গাজর আমাদের ত্বককে কমলার মতো রং করে দিবে যদি আমরা নিয়মিত গাজর খায়। গাজরে থাকে
বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ যা শরিরের রং কে পুরুত্ব করে তুলে। আবার গাজরের
ভিটামিন এ থাকায় যাকবীয় রোগ নিরাময় হয়। গাজর পিশে ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে ত্বকে
লাগালে ত্বকের দাগ দূর হয়। আমাদের সবার গাজর খাওয়া দরকার।
দাঁত রক্ষা করতে গাজরের ব্যবহার
গাজর অত্যান্ত পুষ্টি কর একটি খাবার। অনেকেই আমরা দাঁতের সমস্যা নিয়ে বসে
থাকি আমাদের অঙ্গের ভিতর দাঁত একটি অতি মূল্য বান অঙ্গ। সুস্থ থাকতে আমরা দাঁতের
সঠিক মূল্যায়ন করি না। দাঁতে যখন সমস্যা দেখা দেয় তখন চিন্তা করি। গাজর খেলে দাঁত
সুস্থ ও মজবুত হবে।গাজর একটি সবজি হিসাবে পরিচিত গাজরের অনেক ব্যবহার দেখা
যায়।কাচা গাজর চিবিয়ে খেলে দাঁতের ট্রুুথপেষ্ট হিসাবে কাজ করে।
গাজরে ভিটামিন এ ও কেরোটিন বেশি থাকে। গাজরে পটাসিয়াম থাকে যার ফলে গাজরে
ত্বকের ক্রিম হিসাবে কাজ করে থাকে। যদি আমরা দাঁতকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে চাই
তাহলে গাজরের বিকল্প নাই।নিয়মিত কম করে দিনে ২ থেকে ৩ টি গাজর চিবিয়ে খাবো তাহলে
আমাদের দাঁত সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।
চুলের যত্নে গাজরের ব্যবহার
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা আমরা জানি।চুল আমাদের একটি অকর্ষনীয় জিনিস চুল
আমাদের সুন্দরর্য বৃদ্ধি করে। গাজরের ভিটামিন চুলে সরবারাহ হয় থাকে তাতে চুল
সুন্দর ও সিলল্কি হয়। গাজরের ভিটামিনের দ্বারা চুল ঘন ও ঝকঝক করে। তাই আমরা
আমাদের খাবারের মতো গাজর খেতে হবে তাহলে অনেক উপকার হবে।
আরো পড়ুনঃ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গাজরের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক সময় দেখা যায়
অল্প অসুখে ঔষধ সেবন করার পর ও তেমন ঔষধের কাজ হয় না। তাই আমরা নিয়মিত গাজর খাবো
গাজরে ভিটামিন এ কেরোটিন, ও পটাসিয়াম বেশি থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি করে। আবার চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে ভিটামিন এ প্রয়োজন আর সেই জন্য গাজর
খেতে হবে।
রক্তস্বল্পতা দূর করতে গাজরের ব্যবহার
রক্ত তৈরির জন্য আমাদের শরিরে আয়রন প্রয়োজন। গাজর খেলে আমাদের শরিরে আয়রন
বৃদ্ধি পাবে। আয়রন বৃদ্ধি পেলে শরিরে রক্ত ও বৃদ্ধি পাবে রক্ত পরিষ্কার রাখতে
গাজরের ভূমিকা অপরিসীম। দিনে ২ থেকে ৩ গ্লাস করে গাজরের রস খেতে হবে তাহলে রক্ত
বৃদ্ধি ও রক্ত পরিষ্কার হবে।
হৃদরোগ দূর করে
যাদের হার্টের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত গাজর খাবেন তাহলে রক্তের সঞ্চালন বেড়ে যায়
তার ফলে হৃদয়স্পন্ধন ঠিক থাকে। তাই দিনে ২ -৩ টা গাজর চিবিয়ে খাওয়া বাহ ২-৩
গ্লাস গাজরের রস করে খেলে হৃদরোগ থেকে বাচা যায়।
বিভিন্ন খাবারে গাজরের ব্যবহার
আমরা নিয়মিত খাবারের রেসিপিতে গাজর ব্যবহার করে থাকি। যেমনঃ গাজরের
হালুয়া,খিচরিতে,নুডলসে,গাজরের সবজি,ও বিভিন্ন রেসিপিতে গাজর ব্যবহার করা
হয়।সাধারণত গাজরের ব্যবহার অনেক রকম ভাবে হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত গ্রামের
মানুষেররা বেশি ব্যবহার করে থাকে।তাই তারা একটু বেশি গাজর খেয়ে থাকে।তবে এখন
তুলনা মূলক শহরের মানুষেরা গাজর বেশি খেয়ে থাকে। গাজরের গুরুত্ব অপরিসীম।
গাজরের অপকারিতা কি?
গাজরের যেমন উপকারিতা আছে ঠিক তেমনি অপকারিতা ও আছে। গাজরে ভিটামিন এ থাকায়
বিভিন্ন রকম উপকারিতা আছে গাজর বেশি খেলে শরির হলুদ হয়ে যাবে শরির বিবর্ণ হয়ে
যাবে তাই গাজর মাত্রা অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক হবে না। আবার গাজরে চিনির মাত্রা বেশি
থাকায় যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা অত্যান্ত কম পরিমাণ গাজর খেতে হবে তা নাহলে তাদের
সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের বিবেচনা করে গাজর খেতে হবে।আবার গাজর বেশি খেলে পেটের বিভিন্ন
রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়েরা যদি বেশি পরিমাণ গাজর খায় তাহলে মায়ের দুধের
স্বাদ পরিবর্তন হয়ে অন্য রকম হতে পারে তাই বেশব পরিমাণ গাজর খাওয়া থেকে
বিরত থাকতে হবে।সব কিছুর উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতা ও আছে সে দিকে আমাদের নজর
দিতে হবে।তাহলে শরিরের ক্ষতি থেকে বাচা যাবে।
শেষকথাঃ গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা আমরা উপরে যেনেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে গাজরের
ব্যবহার করা হলো। হজম শক্তি বৃদ্ধিকরে,হাঁড় মজবুত করে,রক্তস্বল্পতা দূর করে,রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চুলের যত্নে ,যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে। আমরা যদি নিয়মিত
গাজর খায় তাহলে অনেক রকম উপকার পাওয়া যায় যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা যদি
দিনে ২-৩ টা গাজর চিবিয়ে বা জুস করে কায় তাহল বেশি উপকার পাওয়া যাবে ।
অলসেবা আইটি ডটকম ওয়েব সেইটে#2495;র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url